পিএসএলে দুই বাংলাদেশি বোলারের লড়াইয়ে জয় পেয়েছে শরীফুল ইসলামের পেশোয়ার জালমি। রিশাদ হোসেনের রাওয়ালপিন্ডিজ দল ২১৪ রানের বড় পুঁজি দাঁড় করালেও তা টপকে যায় পেশোয়ার। জয়ের নায়ক ব্যাটাররাই।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটারের দেখা হয়েছে প্রতিপক্ষ হয়ে। একদিকে পেশোয়ার জালমির হয়ে শরীফুল ইসলাম, অন্যদিকে রাওয়ালপিন্ডিজের হয়ে রিশাদ হোসেন। এই দুই ম্যাচে ব্যাটারদের দাপটেই ভর করেছে পুরো খেলা। শেষ পর্যন্ত ২১৪ রানের বড় পুঁজি নিয়েও জয়ের হাসি হাসেনি রিশাদদের। শরীফুলের পেশোয়ার জালমি ৫ উইকেটে জিতে নিয়েছে ম্যাচটি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দারুণ হয়েছিল রাওয়ালপিন্ডিজের জন্য। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলটির ওপেনার ইয়াসির খান ও মোহাম্মদ রিজওয়ান দারুণ ফর্মে ছিলেন। এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে দলকে এনে দেন দারুণ এক সূচনা। ইয়াসির খান মাত্র ৪৬ বলে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে ৮৩ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। অন্যপ্রান্তে মোহাম্মদ রিজওয়ান ৩২ বলে ৪১ রান করেন। তাদের উদ্বোধনী জুটি ছিল ১২৫ রানের। এরপর তৃতীয় নম্বরে নেমে কামরান গুলাম ৩৭ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রান সংগ্রহ করে রাওয়ালপিন্ডিজ।
পেশোয়ারের হয়ে বল হাতে লড়াই করেছেন শরীফুল ইসলাম। তিনি ৪ ওভার বোলিং করে ৩১ রান দিলেও উইকেট শূন্য ছিলেন। তবে অন্য বোলাররা বেশ রান খরচ করেন। শরীফুল ও সুফিয়ান মুকিম ছাড়া বাকি চার বোলারই ওভারপ্রতি গড়ে ১১ রানের বেশি দিয়েছেন।
২১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু পায় পেশোয়ার জালমি। দলের ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মদ হারিস পাওয়ারপ্লেতেই দলকে পৌঁছে দেন ৬২ রানে। বাবর আজম ৩৯ রান করে আউট হলেও দলের রানের গতি কমতে দেয়নি হারিস। তিনি ৪৭ রান করেন। এর মাঝে রিশাদ হোসেনের বলে অ্যারন হার্ডি ক্যাচ দিয়ে ফিরলে কিছুটা স্বস্তি পায় রাওয়ালপিন্ডিজ। তবে শেষ দিকে মাইকেল ব্রেসওয়েল ও আবদুল সামাদ দারুণ ব্যাটিং করেন। সামাদ মাত্র ১১ বলে ৩৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। ব্রেসওয়েল অপরাজিত থাকেন ১৭ বলে ৩৫ রানে। রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারেই ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পেশোয়ার জালমি।
এই ম্যাচে দুই বাংলাদেশি বোলারের পারফরম্যান্স ভিন্ন ভিন্ন হলেও দলগতভাবে জয় পেয়েছেন শরীফুল। অন্যদিকে রিশাদ হোসেনের দল ২১৪ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েও জয় ধরে রাখতে পারেনি। পিএসএলের এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি জমে উঠেছিল ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে।
পিএসএলের মতো টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। এই জয়ের মাধ্যমে পেশোয়ার জালমি টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেয়েছে। অন্যদিকে রাওয়ালপিন্ডিজকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সামনের ম্যাচগুলোতে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার আরও ভালো করার সুযোগ পাবেন।
প্রশ্ন-উত্তর সেকশন
পিএসএল ম্যাচে পেশোয়ার জালমি কিভাবে জয় পেল?
রাওয়ালপিন্ডিজ ২১৪ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করালেও পেশোয়ার জালমি ব্যাটিংয়ে দারুণ শুরু করে। বাবর আজম ও মোহাম্মদ হারিসের জুটি পাওয়ারপ্লেতে ৬২ রান তোলে। শেষ দিকে আবদুল সামাদ ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলটি ৫ বল আগেই লক্ষ্য টপকে যায়।
দুই বাংলাদেশি বোলার শরীফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেনের পারফরম্যান্স কেমন ছিল?
শরীফুল ইসলাম ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকলেও তার দল জয় পায়। অন্যদিকে রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন। উভয়েই মিডল ওভারে বোলিং করেছেন।
রাওয়ালপিন্ডিজের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান কে করেন?
রাওয়ালপিন্ডিজের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ৮৩ রান করেন ইয়াসির খান। তিনি ৪৬ বলে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কা মেরেছেন। এছাড়া মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪২ রান এবং কামরান গুলাম ৩৭ রান করেন।
পিএসএলের এই ম্যাচটি ছিল ব্যাটারদের শো-কেস। দুই দলের ব্যাটসম্যানেরাই দারুণ সব শট খেলে দর্শকদের বিনোদন দিয়েছেন। ২১৪ রানের বড় পুঁজি নিয়েও শেষ হাসি হেসেছে পেশোয়ার জালমি। দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটারের ম্যাচটি সবার নজর কেড়েছে। সামনের ম্যাচগুলোতে এই দুই বোলার আরও ভালো করার সুযোগ পাবেন। এই প্রতিবেদনটি পিএসএলের উত্তেজনা, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো তুলে ধরেছে।
