২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে পাকিস্তান

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে পাকিস্তান

আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে শুরু হয়েছে এক বিশাল অনিশ্চয়তা। ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যদি এই টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তা হবে বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ঘটনা। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ না খেললে পাকিস্তানও এই মেগা ইভেন্ট বর্জন করার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন খেলার মাঠকেও গ্রাস করে ফেলেছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ক্রিকেট

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ওপর। বিশেষ করে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও মোস্তাফিজুর রহমানকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাটি ঢাকাকে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই বিসিবি দাবি তোলে যে, বিশ্বকাপের বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে পাকিস্তান
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে পাকিস্তান

কেন পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিচ্ছে?

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে এবং বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তবে পাকিস্তানও সংহতি প্রকাশ করে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আইসিসি যদি বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবিগুলোকে গুরুত্ব না দেয়, তবে তারাও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। এর ফলে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এর ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারের মুখে।

আরও জানতে পারেনঃ কেন বাংলাদেশের অনুরোধ রাখা হলো না, জানাল আইসিসি

আইসিসি ও বিসিবির মধ্যকার বিরোধের মূল পয়েন্ট

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আইসিসির কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন। অন্যদিকে আইসিসি তাদের অবস্থানে অনড়। তাদের মতে:

  • সুনির্দিষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি ছাড়া টুর্নামেন্টের ভেন্যু বা সময়সূচী পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

  • রাজনৈতিক কারণে সূচী পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্টগুলোর শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হবে।

  • নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী খেলা না হলে বিকল্প দল দিয়ে প্রতিস্থাপনের কথা ভাবছে সংস্থাটি।

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের ম্যাচের সময়সূচী

নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’-তে অবস্থান করছে। যদি তারা অংশ নেয়, তবে তাদের ম্যাচের সূচী নিম্নরূপ:

প্রতিপক্ষ ভেন্যু গ্রুপ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইডেন গার্ডেন, কলকাতা গ্রুপ সি
ইতালি ইডেন গার্ডেন, কলকাতা গ্রুপ সি
ইংল্যান্ড ইডেন গার্ডেন, কলকাতা group C
নেপাল মুম্বাই group C

খেলোয়াড় ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

আজ ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার এবং ক্রিকেটারদের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে যে, অধিকাংশ সিনিয়র ক্রিকেটার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের পক্ষ থেকে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনা করেই এই বৈঠক থেকে চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হবে। যদি আজকের বৈঠকে কোনো ইতিবাচক সমাধান না আসে, তবে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো প্রায় নিশ্চিত।

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা

ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে যদি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দুটি বড় দল অংশ না নেয়, তবে আইসিসি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল দর্শকগোষ্ঠী এই টুর্নামেন্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, যা স্পন্সরশিপ এবং ব্রডকাস্টিং রেভিনিউয়ের ওপর বিশাল নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মূলত এই বাণিজ্যিক চাপের কারণেই আইসিসি এখন কিছুটা নমনীয় হওয়ার কথা ভাবছে কি না, তা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।

ক্রিকেটের পবিত্রতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ

আইসিসি মনে করে যে, খেলাধুলাকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখা উচিত। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন যখন সামনে আসে, তখন বোর্ডগুলোর জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া জটিল হয়ে দাঁড়ায়। পাকিস্তান যদি সত্যিই বাংলাদেশের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সরে দাঁড়ায়, তবে আইসিসিকে হয়তো নতুন করে তাদের নীতিমালা নিয়ে ভাবতে হবে।

FAQ – ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে সাধারণ প্রশ্নসমূহ

১. ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২. বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপ বর্জনের কথা ভাবছে?

নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল, যা আইসিসি প্রত্যাখ্যান করেছে।

৩. পাকিস্তান কেন বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে?

কূটনৈতিক সংহতি এবং আইসিসির একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তান এই বর্জনে শামিল হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

৪. আইসিসি কি ভেন্যু পরিবর্তন করবে?

এখন পর্যন্ত আইসিসি জানিয়েছে যে, গ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়া ভেন্যু পরিবর্তন করার কোনো সম্ভাবনা নেই।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র অল্প কয়েকদিন বাকি। এমন সময়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থান ক্রিকেট বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরের ভবিষ্যৎ এখন ঢাকা ও দুবাইয়ের (আইসিসি সদর দপ্তর) সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে। যদি শেষ পর্যন্ত দেশ দুটি টুর্নামেন্টে অংশ না নেয়, তবে তা ক্রিকেটের জন্য একটি অন্ধকার অধ্যায় হয়ে থাকবে। আমরা আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান আসবে এবং দর্শকরা মাঠে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে পারবে।

Related posts

Leave a Comment