বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে ৭৪ রানের জয় পেল বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে ৭৪ রানের জয় পেল বাংলাদেশ

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় পেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সেমিফাইনালের দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গেলেও, হারারেতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আজিজুল হাকিমদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। মূলত বোলার ইকবাল হোসেনের বিধ্বংসী বোলিং এবং টপ অর্ডার ব্যাটারদের দৃঢ়তায় জিম্বাবুয়েকে তাদের ঘরের মাঠেই কুপোকাত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

চলমান বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটা খুব একটা সুখকর ছিল না। ‘বি’ গ্রুপে ভারতের কাছে হার এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় পয়েন্ট টেবিলে চাপে পড়ে দল। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয় এসেছিল, কিন্তু টুর্নামেন্টের অদ্ভুত নিয়মে সেই পয়েন্ট সুপার সিক্স পর্বে যোগ হয়নি। ফলে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পরেই টাইগারদের সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায়। আজকের ম্যাচটি ছিল কেবল নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের মঞ্চ।

ব্যাটিংয়ে আজিজুল হাকিমের ফিফটি ও বাংলাদেশের সংগ্রহ

ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দল। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যান অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। এবারের বিশ্বকাপে এটি ছিল তার তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। ৮৭ বলে ৫৯ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি।

মধ্য ওভারে রিজান হোসেনের ৬৮ বলে ৪৭ রানের ইনিংসটি দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দিতে সাহায্য করে। জাওয়াদ করেন ২৫ রান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বোলার তাতেন্দা চিমুগোরো ৪৯ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।

ইকবালের তোপে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং বিপর্যয়

২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। বাংলাদেশের পেসার ইকবাল হোসেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের ক্রিজে দাঁড়াতেই দেননি। ১০ ওভারের স্পেলে ৩টি মেডেনসহ মাত্র ২৪ রান খরচ করে তিনি একাই তুলে নেন ৫টি উইকেট। ইকবালের এই আগুনি বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে মাত্র ৮৪ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বড় হারের শঙ্কায় পড়ে।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সিমবারাসে মুডজেনগেরের। তিনি ১৭১ বলে ৭০ রানের এক ধীরগতির কিন্তু লড়াকু ইনিংস খেলেন। তার ব্যাটে ভর করেই জিম্বাবুয়ে ১৭৯ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। অন্য প্রান্তে ফাহাদ ৩৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের লেজ দ্রুত ছেঁটে দেন। ৪৮.৪ ওভারে স্বাগতিকরা অলআউট হলে ৭৪ রানের জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ও শিক্ষা

যদিও বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে পারেনি, তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে। আজিজুল হাকিমের ধারাবাহিক ব্যাটিং এবং ইকবাল হোসেনের বোলিং নৈপুণ্য ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষ করে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়ে হারারের মাঠে জিম্বাবুয়েকে হারানো একটি বড় অর্জন। তবে সুপার সিক্সের পয়েন্ট ভাগাভাগির নিয়ম এবং বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি পণ্ড হওয়া বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড একনজরে

  • বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৫০ ওভারে ২৫৩/৯ (আজিজুল ৫৯, রিজান ৪৭, জাওয়াদ ২৫)

  • জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৪৮.৪ ওভারে ১৭৯/১০ (মুডজেনগেরের ৭০, সেল্টন ৪২; ইকবাল ৫/২৪)

  • ফলাফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৭৪ রানে জয়ী।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই জয়টি টুর্নামেন্টের বিদায়লগ্নে বাংলাদেশ দলের মনোবল বৃদ্ধি করবে। যদিও মূল ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তবে দলের যুবারা দেখিয়ে দিয়েছেন যে তারা যেকোনো কন্ডিশনে লড়াই করতে সক্ষম। বিশেষ করে ইকবাল হোসেনের মতো প্রতিভাবান পেসার এবং আজিজুল হাকিমের মতো ফিনিশাররা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের পাইপলাইন সমৃদ্ধ করবে বলেই ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

Related posts

Leave a Comment