বিপিএল মঞ্চে আবারও থ্রিলার। মিরপুরে সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়রস ৫ রানে জিতে প্রথম কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে। ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেট শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৪২/৯-এ থেমে যায়। ম্যাচের শেষ ওভারটা ছিল পুরোপুরি নাটকীয়—ওয়াইড, চাপ, আর শেষ বলে বোল্ড; সব মিলিয়ে দর্শকের শ্বাস আটকে রাখা মুহূর্ত।
এই জয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়রস তাদের ৯ ম্যাচে সপ্তম জয় তুলে নেয়। পয়েন্ট হয় ১৪। লিগ পর্বের শেষ দিকে এসে এমন ফল মানে টেবিলের উপরের দিকটা আরও পরিষ্কার হয়ে গেল। অন্যদিকে সিলেট টাইটানসের এলিমিনেটর খেলা আগেই নিশ্চিত ছিল, এই হারেও তাদের অবস্থান তিন-চারের মধ্যেই আটকে থাকছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
নিচে ম্যাচের মূল স্কোরকার্ড এক নজরে—
| দল | স্কোর | গুরুত্বপূর্ণ পারফরমার |
|---|---|---|
| রাজশাহী ওয়ারিয়রস | ২০ ওভারে ১৪৭/৭ | মুশফিক ৪০, নাজমুল ৩৪, সাকলায়েন ১৬* |
| সিলেট টাইটানস | ২০ ওভারে ১৪২/৯ | পারভেজ ৪১, মুমিনুল ৩১, মঈন ২৭ |
| ফল | রাজশাহী ৫ রানে জয়ী | ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রিপন মণ্ডল (৪/৩৪) |
টস, শুরু এবং রাজশাহীর ইনিংস—ভালো শুরু, মাঝপথে ধাক্কা
টসে জিতে সিলেট টাইটানস আগে বোলিং নেয়। রাজশাহী শুরুতেই দুই ওপেনার হারায়, ফলে পাওয়ারপ্লেতে চাপ তৈরি হয়। এরপর নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিম মিলে ইনিংস গুছিয়ে নেন। এই জুটিটাই ছিল রাজশাহীর সবচেয়ে বড় ভরসা।
নাজমুল–মুশফিক জুটি কেন ছিল ম্যাচের ভিত্তি
দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পর এই জুটিতে ৫৬ রান আসে, যেটা রাজশাহীকে ১৪০-এর কাছাকাছি টেনে নেয়। মুশফিক ৩০ বলে ৪০ করে আউট হন—রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে কিপারের হাতে ক্যাচ। নাজমুলও দায়িত্বশীল ৩৪ রান করেন।
তবে ১১.১ ওভারে ১০৪/৩ থেকে দ্রুত উইকেট পড়ে ১৭.৪ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ১২৭/৭। শেষ দিকে আবদুল গাফফার সাকলায়েনের ১৬* দলকে ১৪৭ পর্যন্ত নিয়ে যায়। সিলেটের হয়ে নাসুম ২/৩০, শহিদুল ২/৩৭—দুইজনই নিয়মিত ব্রেকথ্রু এনে দেন।
সিলেট টাইটানসের রান তাড়া—শুরুতেই ধাক্কা, মাঝখানে আশা
১৪৮ তাড়া করতে নেমে সিলেট টাইটানস প্রথম চার ওভারের মধ্যেই দুই উইকেট হারায়। এতে রান তোলার চাপ বাড়ে।
পারভেজের ঝড়ো ৪১—ম্যাচটা ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা
চাপের মুহূর্তে পারভেজ হোসেন ৩০ বলে ৪১ করেন, যেখানে ছিল ২টি চার আর ৪টি ছক্কা। তিনি আউট হওয়ার সময় সমীকরণ দাঁড়ায়—৬০ বলে দরকার ৮০ রান। এই উইকেট রাজশাহীকে ম্যাচে ফেরায়। এরপর মুমিনুল হক ৩৬ বলে ৩১ করে কিছুটা স্থিরতা আনলেও বড় শটের ধারাবাহিকতা কম ছিল।
আফিফ–মুমিনুল আউট, তবু মঈনের লড়াই
মাঝপথে আফিফ (১৬) ও মুমিনুল (৩১) দ্রুত আউট হওয়ায় সিলেট আবার চাপে পড়ে। তবে মঈন আলী ২৭ রান করে ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রাখেন। শেষদিকে তিনি রিপন মণ্ডলকে টানা দুই ছক্কা মারেন, সমীকরণ একসময় সহজও মনে হচ্ছিল। কিন্তু বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ম্যাচ আবার রাজশাহীর দিকে হেলে যায়।
শেষ ওভারের নাটকীয়তা—যেখানে ম্যাচটা আটকে গেল
শেষ ওভারে সিলেটের দরকার ছিল ১১ রান। বোলিংয়ে বিনুরা ফার্নান্দো। ব্যাটিং প্রান্তে শহিদুল, অন্য পাশে রুয়েল মিয়া। ওভারের ভেতরেই একাধিক ডট বল, এরপর টানা দুটি ওয়াইড—সবকিছু মিলিয়ে মাঠে চাপ আরও বেড়ে যায়।
শেষ মুহূর্তে সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ৬। কিন্তু শেষ বলেই রুয়েল মিয়া বোল্ড। এত কিছুর পরও সিলেট ১৪২/৯-এ থেমে যায় এবং রাজশাহী ওয়ারিয়রস ৫ রানে ম্যাচ জিতে নেয়। এই এক ওভারই বোঝায়—T20-তে শেষ পর্যন্ত মাথা ঠান্ডা রাখতে না পারলে ম্যাচ হাতছাড়া হতে কতটা সময় লাগে।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ রিপন মণ্ডল—কেন তিনি আলাদা
রিপন মণ্ডল ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। শেষদিকে যখন সিলেটের ব্যাটসম্যানরা বড় শটের পথে যাচ্ছিল, তখন তাঁর দুই উইকেটওয়ালা ওভার ম্যাচের গতি বদলে দেয়। বিশেষ করে মঈনের ওভারে টানা ছক্কার পর ক্যাচ আউট করানো—এটাই ছিল বড় টার্নিং পয়েন্ট।
পয়েন্ট টেবিল ও প্লে-অফ সমীকরণ—রাজশাহীর লাভ, সিলেটের অবস্থান
এই জয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়রস ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্টে উঠে প্রথম কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নেয়। লিগ পর্বে বাকিদের জন্য টপ-টু ধরা এখন আরও কঠিন। অন্যদিকে সিলেট টাইটানস ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে এবং বাকি ফল যাই হোক, তাদের অবস্থান মূলত তিন বা চারেই থাকবে—মানে এলিমিনেটর খেলাই তাদের বাস্তব চিত্র।
ম্যাচ থেকে শেখার ৫টি দ্রুত পয়েন্ট
-
রাজশাহী ১৪৭ করেও ম্যাচ জিতেছে, কারণ বোলাররা চাপ ধরে রেখেছে।
-
সিলেটের পাওয়ারপ্লের দুই উইকেট তাড়ার গল্প কঠিন করেছে।
-
পারভেজের ইনিংস ম্যাচের মাঝখানে আশা জাগিয়েছে।
-
মঈনের দুই ছক্কার পর আউট হওয়াটা বড় ধাক্কা।
-
শেষ ওভারে ডট বল ও নিয়ন্ত্রণই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন-উত্তর (FAQ)
রাজশাহী ওয়ারিয়রস কত রানে জিতেছে?
রাজশাহী ওয়ারিয়রস সিলেট টাইটানসকে ৫ রানে হারিয়েছে।
ম্যাচে রাজশাহীর স্কোর কত ছিল?
রাজশাহী ওয়ারিয়রস ২০ ওভারে ১৪৭/৭ করেছে।
সিলেট টাইটানস কত রানে অলআউটের কাছাকাছি থেমেছে?
সিলেট টাইটানস ২০ ওভারে ১৪২/৯-এ থেমেছে।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ কে এবং কেন?
রিপন মণ্ডল ম্যান অব দ্য ম্যাচ। তিনি ৪/৩৪ নিয়ে সিলেটের রান তাড়া ভেঙে দিয়েছেন।
এই জয়ের ফলে রাজশাহীর কী অর্জন হলো?
এই জয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়রস ১৪ পয়েন্টে উঠে প্রথম কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে।
শেষ কথা
বিপিএল মানেই শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা—এই ম্যাচটা তার নিখুঁত উদাহরণ। রাজশাহী ওয়ারিয়রস ব্যাটিংয়ে বড় স্কোর না পেলেও বোলিং আর ফিল্ডিং দিয়ে ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সিলেট টাইটানস মাঝপথে লড়াইয়ে ফিরলেও শেষ ওভারের চাপ সামলাতে না পারায় জয়টা আর ধরা দেয়নি। ৫ রানের এই জয় রাজশাহীর জন্য শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, প্লে-অফের রাস্তায় বড় আত্মবিশ্বাসও।
