ফুটবল প্রেমীদের অপেক্ষার প্রহর শেষ। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে এবার শুরু হতে যাচ্ছে নকআউট পর্বের আসল উত্তেজনা। ৩৬টি দলের দীর্ঘ লড়াই শেষে বিদায় নিয়েছে ১২টি দল, আর টিকে আছে সেরা ২৪টি দল। এর মধ্যে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ ৮ দল তো সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু বাকি ১৬টি দলের ভাগ্য কী? তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে আজকের এই প্লে-অফ ড্রয়ের মাধ্যমে।
আজ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার। সুইজারল্যান্ডের নিওনে অবস্থিত ‘হাউজ অব ইউরোপিয়ান ফুটবলে’র জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ঠিক হবে ইউরোপ সেরা হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকা দলগুলোর পরবর্তী গন্তব্য।
ড্র কখন এবং কোথায় দেখবেন?
বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের চোখ থাকবে ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ৫টার দিকে। ঠিক এই সময়েই শুরু হবে ড্র অনুষ্ঠান। আপনারা এই টানটান উত্তেজনার ড্র সরাসরি দেখতে পারবেন উয়েফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অ্যাপে। এছাড়া টিভিতে ‘সনি স্পোর্টস টেন’ চ্যানেলেও এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হবে।
আরও জানুনঃ বিশ্বকাপের আগে নিষিদ্ধ হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জোন্স
নকআউট প্লে-অফের সমীকরণ
লিগ পর্ব শেষে নবম স্থান থেকে ২৪তম স্থানে থাকা মোট ১৬টি দল এই প্লে-অফে অংশ নিচ্ছে। এই ১৬টি দলকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—বাছাই (Seeded) এবং অবাছাই (Unseeded)। নিয়মটি সহজ, পয়েন্ট তালিকার উপরের দিকের দলগুলো খেলবে নিচের দিকের দলগুলোর সাথে। অর্থাৎ বাছাই দলগুলো লড়বে অবাছাই দলগুলোর বিপক্ষে।
বাছাই বা সিডেড দল (পয়েন্ট তালিকার ৯ম থেকে ১৬তম): এই তালিকায় রয়েছে ইউরোপের বেশ কিছু বাঘা বাঘা ক্লাব। তারা হলো—
-
রিয়াল মাদ্রিদ
-
ইন্টার মিলান
-
প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)
-
নিউক্যাসল ইউনাইটেড
-
জুভেন্টাস
-
আতলেতিকো মাদ্রিদ
-
আতালান্তা
-
বায়ার লেভারকুসেন
অবাছাই বা আনসিডেড দল (পয়েন্ট তালিকার ১৭তম থেকে ২৪তম): এই তালিকায় যারা রয়েছে, তারা হলো—
-
বরুসিয়া ডর্টমুন্ড
-
অলিম্পিয়াকোস
-
ক্লাব ব্রুগা
-
গ্যালাতাসারাই
-
মোনাকো
-
কারাবাগ
-
বোডো/গ্লিমট
-
বেনফিকা
ড্র পদ্ধতি যেভাবে কাজ করবে
অনেকেই ভাবছেন ড্র হয়তো লটারির মতো পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। উয়েফা এবার কিছুটা কৌশলী পদ্ধতি অবলম্বন করছে। দলগুলোর লিগ পর্বের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চারটি আলাদা জোড়া বা পাত্র তৈরি করা হয়েছে।
বাছাই দলের বিন্যাস: ১. ৯ম ও ১০ম স্থান ২. ১১তম ও ১২তম স্থান ৩. ১৩তম ও ১৪তম স্থান ৪. ১৫তম ও ১৬তম স্থান
অবাছাই দলের বিন্যাস: ১. ১৭তম ও ১৮তম স্থান ২. ১৯তম ও ২০তম স্থান ৩. ২১তম ও ২২তম স্থান ৪. ২৩তম ও ২৪তম স্থান
ম্যাচ মেকিং: নিয়ম অনুযায়ী, ৯ম ও ১০ম স্থানে থাকা দলগুলো খেলবে ২৩তম বা ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে। ঠিক একইভাবে ১১ ও ১২ নম্বর দল পাবে ২১ বা ২২ নম্বর দলকে। অর্থাৎ, শক্তিশালী দলগুলো তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানের দলের মুখোমুখি হবে।
হাইভোল্টেজ ম্যাচের সম্ভাবনা
আজকের ড্র থেকে আমরা বেশ কিছু রোমাঞ্চকর ম্যাচের আভাস পাচ্ছি। সম্ভাব্য কিছু প্রতিপক্ষের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
-
রিয়াল মাদ্রিদ বা ইন্টার মিলান: এদের প্রতিপক্ষ হতে পারে বোডো/গ্লিমট অথবা বেনফিকা।
-
পিএসজি বা নিউক্যাসল: এদের লড়তে হতে পারে মোনাকো অথবা কারাবাগের বিপক্ষে।
-
জুভেন্টাস বা আতলেতিকো মাদ্রিদ: সামনে পড়তে পারে ক্লাব ব্রুগা অথবা গ্যালাতাসারাই।
-
আতালান্তা বা লেভারকুসেন: এদের পরীক্ষা দিতে হতে পারে ডর্টমুন্ড অথবা অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে।
একই দেশের দুই দল কি মুখোমুখি হতে পারবে?
চ্যাম্পিয়নস লিগের পুরনো নিয়মে অনেক সময় একই দেশের ক্লাবের মুখোমুখি হওয়া নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এবারের প্লে-অফে সেই বাধা নেই। লিগ পর্বে যদি দুটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে খেলেও থাকে, কিংবা তারা যদি একই দেশের ক্লাব হয়—তবুও প্লে-অফে তাদের মুখোমুখি হতে কোনো বাধা নেই। তাই ঘরোয়া লিগের ডার্বি ম্যাচ আমরা ইউরোপিয়ান মঞ্চেও দেখতে পারি।
খেলার সময়সূচি
ড্র তো আজ হয়ে যাবে, কিন্তু মাঠের লড়াই কবে? ফুটবল প্রেমীদের ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখার মতো তারিখগুলো হলো:
-
প্রথম লেগ: ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি।
-
দ্বিতীয় লেগ: ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি।
এই দুই লেগ মিলিয়ে যারা বিজয়ী হবে, তারা পৌঁছে যাবে শেষ ষোলোতে, যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ ৮ দল।
শেষ ষোলোর আগাম বার্তা
মজার ব্যাপার হলো, লিগ পর্বের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে শেষ ষোলোর একটা সম্ভাব্য পথরেখাও তৈরি হয়ে গেছে। প্লে-অফ থেকে যারা জিতে আসবে, তারা কাদের মুখোমুখি হবে তার একটা ধারণা পাওয়া যাচ্ছে:
-
পিএসজি, নিউক্যাসল, মোনাকো বা কারাবাগের মধ্যে যারা জিতে আসবে—তাদের সামনে পড়তে পারে বার্সেলোনা বা চেলসির মতো পরাশক্তি।
-
জুভেন্টাস, আতলেতিকো, ব্রুগা বা গ্যালাতাসারাইয়ের বিজয়ীরা লড়তে পারে লিভারপুল বা টটেনহামের বিপক্ষে।
-
রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, বোডো বা বেনফিকার বিজয়ীরা মুখোমুখি হতে পারে স্পোর্টিং সিপি বা ম্যানচেস্টার সিটির।
-
অন্যদিকে, আতালান্তা, লেভারকুসেন, ডর্টমুন্ড বা অলিম্পিয়াকোসের বিজয়ীরা লড়তে পারে আর্সেনাল বা বায়ার্ন মিউনিখের সাথে।
সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের এই নতুন ফরম্যাট এবং প্লে-অফ পদ্ধতি টুর্নামেন্টে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কার ভাগ্যে কোন প্রতিপক্ষ জোটে তা দেখার জন্য। চোখ রাখুন আজকের ড্র অনুষ্ঠানে!
