ডন ব্র্যাডম্যানের ঐতিহাসিক ব্যাগি গ্রিন ৭৫ বছর পর ফিরল অস্ট্রেলিয়ায়

ডন ব্র্যাডম্যানের ঐতিহাসিক ব্যাগি গ্রিন ৭৫ বছর পর ফিরল অস্ট্রেলিয়ায়

ক্রিকেট বিশ্বের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ডের প্রতিচ্ছবি। তাঁর ব্যবহার করা প্রতিটি জিনিসই ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে অমূল্য রত্ন। সেই রত্নগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটারদের ঐতিহ্যবাহী টুপি, যা ‘ব্যাগি গ্রিন’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের একটি ঐতিহাসিক Baggy Green ক্যাপ নিলামে তোলা হয়েছিল, যা অবিশ্বাস্য দামে বিক্রি হয়ে নতুন শিরোনাম তৈরি করেছে। আজ স্যার ডনের একটি ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত লয়েডস অকশনসের এই নিলামটি ক্রিকেট বিশ্বের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে।

নিলামে এই ক্যাপটি কিনেছেন একজন অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতা। তবে এই ক্যাপটির পেছনের গল্পটি টাকার অঙ্কের চেয়েও অনেক বেশি রোমাঞ্চকর। এটি শুধুমাত্র একটি খেলার সামগ্রী নয়, বরং এটি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য সাক্ষী। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে এই ক্যাপটি পরে মাঠে নেমেছিলেন ডন ব্র্যাডম্যান। ঘরের মাঠে সেটিই ছিল তাঁর খেলা শেষ টেস্ট সিরিজ। এরপর ৭৫ বছর ধরে এই মূল্যবান ক্যাপটি ভারতের এক সাবেক ক্রিকেটারের পরিবারের কাছে সযত্নে রক্ষিত ছিল। আজ আমরা এই আর্টিকেলে জানাবো এই ঐতিহাসিক নিলামের খুঁটিনাটি, ক্যাপটির ইতিহাস এবং কেন এটি এত চড়া দামে বিক্রি হলো।

আরও জেনে নিনঃ আর্সেনালের শিরোপা স্বপ্নে এবার ইউনাইটেডের ধাক্কা

ঐতিহাসিক নিলাম এবং ক্যাপটির অবিশ্বাস্য মূল্য

গোল্ড কোস্টে লয়েডস অকশনিয়ার্স অ্যান্ড ভ্যালুয়ার্স আয়োজিত নিলামে যখন স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের এই ক্যাপটি তোলা হয়, তখন থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল যে এর দাম আকাশছোঁয়া হবে। বাস্তবেও তাই হয়েছে। বিডিং শুরু হয়েছিল মাত্র ১ ডলার থেকে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইন এবং অফলাইনে প্রচুর মানুষ বিডিংয়ে অংশ নিতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে হাতুড়ির বাড়ি পড়ে। তবে এখানেই শেষ নয়, ক্রেতাকে এই দামের সাথে আরও ১৬.৫ শতাংশ বায়ার্স প্রিমিয়াম হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে এই ঐতিহাসিক স্মারকের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশিতে গিয়ে ঠেকেছে।

এই ক্যাপটি কেনার জন্য নিলামে যে উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল, তা প্রমাণ করে যে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের জনপ্রিয়তা আজও বিন্দুমাত্র কমেনি। লয়েডস অকশনসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই ক্যাপটি এখন অস্ট্রেলিয়াতেই থাকবে এবং সম্ভবত বিখ্যাত কোনো জাদুঘরে সাধারণ মানুষের দেখার জন্য প্রদর্শন করা হবে। এটি অজি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় সুখবর।

কেন এই ব্যাগি গ্রিনটি এত বিশেষ?

ডন ব্র্যাডম্যান তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি Baggy Green ক্যাপ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এই নির্দিষ্ট ক্যাপটির বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। এর সাথে জড়িয়ে আছে ১৯৪৭-৪৮ সালের ঐতিহাসিক ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। এটি ছিল ব্র্যাডম্যানের ক্যারিয়ারের শেষ হোম সিরিজ। এই সিরিজের পরেই ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে তিনি ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। যেই সিরিজে তিনি তাঁর বিখ্যাত ৯৯.৯৪ ব্যাটিং গড় নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন।

এই ক্যাপটির বিশেষত্ব হলো:

  • এটি ব্র্যাডম্যানের শেষ হোম সিরিজে ব্যবহৃত।

  • ক্যাপটির ভেতরে হাতে লেখা আছে ‘ডি জি ব্র্যাডম্যান’ এবং ‘এস ডব্লিউ সোহনি’।

  • এটি ৭৫ বছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল।

  • এটি সরাসরি ব্র্যাডম্যানের হাত থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া।

৭৫ বছরের গোপন ইতিহাস ও সোহনি পরিবারের ত্যাগ

এই ক্যাপটি গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কোথায় ছিল, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল ছিল। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৪৭-৪৮ সালে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালীন ব্র্যাডম্যান এই ক্যাপটি উপহার দিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার এস ডব্লিউ সোহনিকে। ক্রিকেট বিশ্বে তিনি রাঙ্গা সোহনি নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ব্র্যাডম্যানের প্রতি সম্মান এবং বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে এই ক্যাপটি সোহনির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

রাঙ্গা সোহনি এবং তাঁর পরিবার এই ক্যাপটিকে সাধারণ কোনো উপহার হিসেবে দেখেননি। তাঁরা এটিকে রীতিমতো পূজনীয় বস্তুর মতো আগলে রেখেছিলেন। দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে সোহনি পরিবারের কাছে এটি সংরক্ষিত ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময়ে কখনোই এটি জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়নি।

তিন প্রজন্মের কঠোর নিরাপত্তা

নিলামের আগে লয়েডস অকশনিয়ার্স অ্যান্ড ভ্যালুয়ার্সের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা লি হেমস একটি চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ক্যাপটি সোহনি পরিবারের কাছে গত তিন প্রজন্ম ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের জন্যও এটি দেখার নিয়ম ছিল অত্যন্ত কড়াকড়ি।

পরিবারের নিয়ম অনুযায়ী:

  • সদস্যদের বয়স ১৬ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাপটি দেখার অনুমতি ছিল না।

  • ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পর অনুমতি মিললেও তা দেখা যেত মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য।

  • অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এটি সংরক্ষণ করা হতো যাতে ক্যাপের কোনো ক্ষতি না হয়।

সোহনি পরিবারের এই নিষ্ঠা এবং ভালোবাসাই ক্যাপটিকে আজ পর্যন্ত অক্ষত রেখেছে। তবে রাঙ্গা সোহনির একটি শেষ ইচ্ছা ছিল। তিনি চেয়েছিলেন, এই ঐতিহাসিক ক্যাপটি যেন শেষ পর্যন্ত আবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যায়, যেখানে এর প্রকৃত শিকড়। আজকের এই নিলামের মাধ্যমে সোহনির সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। ক্যাপটি এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই ফিরে এসেছে।

ব্র্যাডম্যানের অন্যান্য ব্যাগি গ্রিন এবং নিলামের রেকর্ড

ক্রিকেট স্মারক বা Cricket Memorabilia সংগ্রহ করা বর্তমানে একটি বিশাল বিনিয়োগের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের চাহিদা সব সময়ই তুঙ্গে। এর আগেও ব্র্যাডম্যানের একাধিক ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ নিলামে তোলা হয়েছে এবং সেগুলোও চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। পাঠকদের সুবিধার্থে নিচে ব্র্যাডম্যানের বিভিন্ন ক্যাপের বিক্রয় মূল্যের একটি তালিকা দেওয়া হলো।

ব্র্যাডম্যানের ক্যাপ বিক্রির পূর্ববর্তী রেকর্ড

সাল ক্যাপের বিবরণ বিক্রয় মূল্য (মার্কিন ডলার)
২০২০ ১৯২৮ সালের অভিষেক সিরিজের ক্যাপ ৪,৫০,০০০ ডলার
২০০৩ ১৯৪৮ সালের ক্যারিয়ারের শেষ সিরিজের ক্যাপ ৪,২৫,০০০ ডলার
২০০৮ ১৯৪৮ সালের ক্যাপটি পুনরায় বিক্রি হয় ৪,০০,০০০ ডলার
২০২৪ একটি বিবর্ণ ও ছিন্নভিন্ন ব্যাগি গ্রিন ৪,৭৯,৭০০ ডলার
২০২৬ ১৯৪৭-৪৮ সালের ক্যাপ (বর্তমান নিলাম) ৪,৬০,০০০ ডলার

এই তালিকা থেকে বোঝা যায়, ব্র্যাডম্যানের স্মারকের মূল্য সময়ের সাথে সাথে কতটা স্থিতিশীল এবং উর্ধ্বমুখী। তবে ব্যাগি গ্রিন বিক্রির ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ডের মালিক শেন ওয়ার্ন। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রসের দাবানল তহবিলের জন্য শেন ওয়ার্নের ব্যাগি গ্রিনটি বিক্রি হয়েছিল ১০ লাখ ৭ হাজার ৫০০ ডলারে। যদিও সেটি ছিল একটি চ্যারিটি বা দাতব্য নিলাম, তবুও ব্র্যাডম্যানের ক্যাপের ধারাবাহিক উচ্চমূল্য প্রমাণ করে যে তিনি সংগ্রাহকদের কাছে কতটা প্রিয়।

ক্যাপের গঠন এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব

নিলামে বিক্রি হওয়া এই ক্যাপটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের আভিজাত্যের প্রতীক। গাঢ় সবুজ রঙের এই টুপির সামনে রয়েছে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের কোট অব আর্মস বা প্রতীক। আর ঠিক তার নিচেই লেখা রয়েছে ‘১৯৪৭-৪৮’। এই সালটি ক্যাপটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।

সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি টেস্ট সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা নতুন করে Baggy Green ক্যাপ পেতেন। জানা যায়, ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যবহৃত ব্যাগি গ্রিনের সংখ্যা ছিল মাত্র ১১টি। এই সীমিত সংখ্যার কারণেই সংগ্রাহকদের মধ্যে এগুলো পাওয়ার জন্য এত তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এই ক্যাপটির ভেতরে থাকা লেখাগুলো এর সত্যতা বা অথেনটিসিটি প্রমাণ করে। বিশেষ করে ব্র্যাডম্যান এবং সোহনির নাম খোদাই করা থাকায় এটি দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের এক অনন্য দলিল হয়ে উঠেছে।

লয়েডস অকশনসের বক্তব্য

লয়েডস অকশনিয়ার্স অ্যান্ড ভ্যালুয়ার্সের কর্মকর্তা লি হেমস এই ক্যাপটিকে ক্রিকেটের ‘হলি গ্রেইল’ বা পবিত্র পানপাত্রের সাথে তুলনা করেছেন। নিলামের সময় তিনি বলেন, “সোহনির শেষ ইচ্ছা ছিল ক্যাপটি আবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসুক। আজ সেই ইচ্ছা পূর্ণ হলো।” তিনি আরও জানান, নিলামে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যে উৎসাহ দেখা গেছে, তা অভূতপূর্ব। বিশেষ করে ভারতীয় এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট ভক্তদের আবেগ এই নিলামকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এবং স্মারক সংগ্রহের প্রবণতা

বর্তমান যুগে ক্রিকেট শুধুমাত্র মাঠের খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন একটি বিশাল বাণিজ্যের অংশ। পুরনো দিনের বিখ্যাত খেলোয়াড়দের ব্যাট, বল, জার্সি বা ক্যাপ সংগ্রহ করা এখন অনেকের শখ এবং বিনিয়োগের মাধ্যম। ডন ব্র্যাডম্যানের এই ক্যাপ বিক্রির ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের আবেদন কখনোই ফুরিয়ে যায় না।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, এত টাকা দিয়ে একটি পুরনো টুপি কেনা কি যুক্তিসঙ্গত? উত্তর হলো, এটি শুধুমাত্র একটি টুপি নয়। এটি একটি ইতিহাসের টুকরো। ৯৯.৯৪ গড়ের সেই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের সাক্ষী এই ক্যাপ। যারা এটি কেনেন, তারা মূলত সেই ইতিহাসকে নিজের কাছে ধারণ করতে চান। তাছাড়া, অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি নিরাপদ বিনিয়োগ। সময়ের সাথে সাথে এই ধরণের অ্যান্টিক বা দুষ্প্রাপ্য জিনিসের দাম বাড়তেই থাকে।

ক্রেতার পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ গন্তব্য

যদিও ক্রেতার নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবুও জানা গেছে তিনি একজন বড় মাপের সংগ্রাহক। লয়েডস অকশনসের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপটি কোনো ব্যক্তিগত লকারে বন্দি থাকবে না। বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার কোনো এক বিখ্যাত জাদুঘরে প্রদর্শিত হবে। এর ফলে সাধারণ ক্রিকেট ভক্তরা, যারা ব্র্যাডম্যানকে আইডল মানেন, তারা চোখের সামনে তাদের হিরোর ব্যবহৃত জিনিসটি দেখার সুযোগ পাবেন। এটি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে। সোহনি পরিবারও এতে অত্যন্ত খুশি হবে, কারণ তাদের পূর্বপুরুষের ইচ্ছা অনুযায়ী ক্যাপটি তার আপন ঘরে ফিরে এসেছে এবং মানুষ এর কদর করছে।

স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন ক্যাপের এই নিলাম শুধুমাত্র টাকার অঙ্কের বিচার নয়, বরং এটি ক্রিকেটের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এবং আবেগের বহিঃপ্রকাশ। ৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হয়তো অনেক বড় অঙ্ক, কিন্তু ব্র্যাডম্যানের কীর্তি এবং ইতিহাসের কাছে তা নগণ্য। ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাপটির এই দীর্ঘ যাত্রা এবং ৭৫ বছর পর তার ঘরে ফেরা—সব মিলিয়ে এটি একটি রূপকথার গল্পের মতো। রাঙ্গা সোহনির পরিবারের ত্যাগ এবং সততা এই গল্পকে আরও মহিমান্বিত করেছে। ক্রিকেট যতদিন বেঁচে থাকবে, ডন ব্র্যাডম্যান এবং তাঁর এই অমূল্য স্মারকগুলোর আবেদন ততদিন অক্ষুণ্ণ থাকবে। এই নিলাম আবারও মনে করিয়ে দিল, কিংবদন্তিরা চলে যান, কিন্তু তাদের কীর্তিগুলো অনন্তকাল ধরে বেঁচে থাকে ভক্তদের হৃদয়ে।

Related posts

Leave a Comment