নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটের দরবারে এক অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং মার্জিত শক্তির নাম। ক্রিকেট দুনিয়ায় তারা ‘ব্ল্যাক ক্যাপস’ নামেই অধিক পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র নিউজিল্যান্ডের এই দলটি তাদের ভদ্রতা এবং অদম্য জেদের জন্য সারা বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দীর্ঘ সময়ের লড়াই আর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা আজ বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষ তালিকায় নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং খেলার চেতনার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা প্রতিটি ক্রিকেট ভক্তকে মুগ্ধ করে। আজকের এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব তাদের সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অর্জিত সকল গৌরবময় অধ্যায় নিয়ে।
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল এর সূচনালগ্ন এবং ঐতিহাসিক যাত্রা
নিউজিল্যান্ডে ক্রিকেটের ইতিহাস বেশ পুরোনো হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল কিছুটা দেরিতে। ১৯৩০ সালে ক্রাইস্টচার্চে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তারা প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। যদিও সেই শুরুর দিনগুলো খুব একটা সহজ ছিল না। প্রথম টেস্ট জয়ের জন্য তাদের দীর্ঘ ২৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ১৯৫৬ সালে অকল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তারা প্রথম জয়ের স্বাদ পায়। সেই জয়টিই ছিল দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনকারী মুহূর্ত।
পরবর্তীতে সত্তরের দশকের শেষভাগ এবং আশির দশকের শুরুর দিকে
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে। স্যার রিচার্ড হ্যাডলির মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবং গ্লেন টার্নারের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানদের হাত ধরে তারা বিশ্বমঞ্চে হুঙ্কার দিতে শুরু করে। সেই সময়েই তারা নিজেদের প্রমাণ করেছিল যে কেবল অংশগ্রহণ করাই তাদের লক্ষ্য নয়, বরং জয় করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ব ক্রিকেটের যেকোনো বড় দলের সাথে সমানতালে লড়াই করার সামর্থ্য তারা অর্জন করেছিল সেই যুগেই।
আশির দশকের সেই স্বর্ণালী সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটকে একটি মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেয়। তখন থেকেই দলটি ক্রমাগত উন্নতির পথে ধাবিত হতে থাকে। বর্তমান সময়ের ক্রিকেট বিশ্বে যারা আধিপত্য বিস্তার করছে, তাদের জন্য নিউজিল্যান্ড দল সবসময়ই এক কঠিন প্রতিপক্ষ। তারা প্রমাণ করেছে যে সীমিত জনবল এবং সম্পদ নিয়েও কেবল একাগ্রতা এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্বজয় করা সম্ভব। তাদের এই যাত্রায় প্রতিটি মাইলফলক ছিল অত্যন্ত শিক্ষণীয়।
আইসিসি ইভেন্টে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল এর অভূতপূর্ব সাফল্য
আইসিসি টুর্নামেন্ট বা বিশ্ব আসরগুলোতে
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল সবসময়ই একটি অপ্রতিরোধ্য নাম। যদিও দীর্ঘ সময় ধরে তারা কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি, কিন্তু প্রায় প্রতিটি আসরেই তারা সেমিফাইনাল বা ফাইনালে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। ২০০০ সালে আইসিসি নকআউট ট্রফি (যা বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নামে পরিচিত) জয়ের মাধ্যমে তারা প্রথম বড় কোনো বৈশ্বিক শিরোপা ঘরে তোলে। ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে সেই জয়টি ছিল তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।
এরপর ২০১৫ এবং ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তারা টানা দুবার ফাইনাল খেলেছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালের কথা ক্রিকেট ইতিহাস কোনোদিন ভুলবে না। লর্ডসের সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে বাউন্ডারি গণনার অদ্ভুত নিয়মের কারণে তারা ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায়, কিন্তু বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে নেয়। তাদের সেই লড়াই এবং পরাজয়ের পর হাসিমুখে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তাদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
নিউজিল্যান্ড দলের প্রধান আইসিসি সাফল্যসমূহ
| টুর্নামেন্ট |
বছর |
ফলাফল |
| আইসিসি নকআউট ট্রফি |
২০০০ |
চ্যাম্পিয়ন |
| আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ |
২০১৫ |
রানার-আপ |
| আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ |
২০১৯ |
রানার-আপ |
| আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ |
২০২১ |
চ্যাম্পিয়ন |
| আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ |
২০২১ |
রানার-আপ |
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়: ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম মুহূর্ত
২০২১ সালে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে। কেন উইলিয়ামসনের শান্ত নেতৃত্ব এবং কাইল জেমিসনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে তারা সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বিশ্বসেরার মুকুট পরে। এই জয়টি ছিল গত কয়েক দশকের নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের ফল। টেস্ট ক্রিকেটকে তারা সবসময়ই বিশেষ মর্যাদা দিয়ে এসেছে এবং এই ট্রফিটি ছিল সেই মর্যাদার যোগ্য স্বীকৃতি। এই জয়ের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই নয়, বরং ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফরম্যাটেও শ্রেষ্ঠ।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেই ফাইনালে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচেও তারা যেভাবে ধৈর্য প্রদর্শন করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। কেন উইলিয়ামসন এবং রস টেইলরের অভিজ্ঞ ব্যাটিং জোড় ভারতকে হারিয়ে কিউইদের বহু প্রতীক্ষিত শিরোপার স্বাদ এনে দেয়। এটি ছিল নিউজিল্যান্ডের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এক গর্বের দিন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড দল টেস্ট ফরম্যাটে তাদের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আইসিসি ইভেন্টে তাদের এই ধারাবাহিকতা অন্য যেকোনো দলের জন্য ঈর্ষণীয়।
ব্ল্যাক ক্যাপসদের ইতিহাসের সেরা ৫ জন কিংবদন্তি ক্রিকেটার
নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে অনেক মহান ক্রিকেটারের অবদান রয়েছে। তারা কেবল নিজেদের দেশেই নয়, বরং সারা বিশ্বে ক্রিকেটের দূত হিসেবে কাজ করেছেন। নিচে এমন ৫ জন কিংবদন্তির কথা তুলে ধরা হলো যাদের ছাড়া
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল এর ইতিহাস অসম্পূর্ণ:
- স্যার রিচার্ড হ্যাডলি: তিনি কেবল নিউজিল্যান্ডের নয়, বরং সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। টেস্ট ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম বোলার ছিলেন তিনি। তার সুইং এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থ ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল মূর্তিমান আতঙ্ক।
- মার্টিন ক্রো: আধুনিক ব্যাটিং কৌশলের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে তার উদ্ভাবনী অধিনায়কত্ব এবং অসাধারণ ব্যাটিং নিউজিল্যান্ডকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল।
- স্টিফেন ফ্লেমিং: নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল এবং ধুরন্ধর অধিনায়ক। তার অধীনেই কিউইরা বিশ্বমঞ্চে বড় দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করে। তার মার্জিত ব্যাটিং এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা দলকে বহু জয় এনে দিয়েছে।
- ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম: নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক মেজাজের সূচনা করেছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে দলটি ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল। ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে তার ব্যাটিং তাণ্ডব ভক্তদের রোমাঞ্চিত করত।
- কেন উইলিয়ামসন: বর্তমান যুগের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। তার শান্ত মেজাজ এবং অসাধারণ টেকনিক তাকে বিশ্বের সেরা চার ব্যাটসম্যানের তালিকায় স্থান করে দিয়েছে। তার অধিনায়কত্বেই নিউজিল্যান্ড বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল।
এই খেলোয়াড়দের অবদান কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। তারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যে অনুপ্রেরণা রেখে গিয়েছেন, তা অমূল্য। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের অনেক তরুণ খেলোয়াড় তাদের আদর্শ মেনে এগিয়ে যাচ্ছেন। মাঠের ভেতরে এবং বাইরে তাদের আচরণ সবসময়ই অনুকরণীয় ছিল। তাদের প্রতিটি ইনিংস এবং প্রতিটি স্পেল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের এক একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। খেলাধুলার এই রোমাঞ্চকর তথ্যগুলো আপনি
খেলার জগত থেকে আরও বিস্তারিতভাবে জানতে পারেন।
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল এর খেলার ধরন এবং বিশেষ কৌশল
অন্যান্য পরাশক্তিদের তুলনায় নিউজিল্যান্ডের খেলার ধরন কিছুটা ভিন্ন। তারা অনেক বেশি কৌশলী এবং সুশৃঙ্খল। বিশেষ করে তাদের ফিল্ডিং এবং বোলিং ইউনিট সবসময়ই বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। তারা বড় কোনো তারকা নির্ভর দল হওয়ার পরিবর্তে একটি দলগত শক্তি বা ‘টিম গেম’ খেলায় বিশ্বাসী। মাঠের মধ্যে ছোট ছোট সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে তারা ম্যাচ বের করে নিতে ওস্তাদ।
বোলিংয়ের ক্ষেত্রে তারা সবসময়ই সুইং এবং গতির সমন্বয় ঘটাতে পছন্দ করে। ট্রেন্ট বোল্ট এবং টিম সাউদির মতো বিশ্বসেরা পেস জুটির কথা সবার জানা। নতুন বলে তাদের সুইং যেকোনো টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আবার ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে তারা উইকেট ধরে রেখে শেষ দিকে আক্রমণ করার কৌশল অবলম্বন করে। তাদের এই স্থিতিশীলতা এবং মানসিক দৃঢ়তা বড় বড় টুর্নামেন্টে তাদের সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি।
নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিং নিয়ে আলাদাভাবে কথা না বললেই নয়। সীমানায় তাদের অ্যাথলেটিসিজম এবং অবিশ্বাস্য সব ক্যাচ ধরার দৃশ্য ক্রিকেট ভক্তদের চোখে লেগে থাকে। তারা বিশ্বাস করে যে, একটি ভালো ক্যাচ পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেওয়ার কারণেই
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল আজ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের খেলার পরিকল্পনা সবসময়ই প্রতিপক্ষের দুর্বলতা অনুযায়ী সাজানো থাকে, যা তাদের অনন্য করে তোলে।
নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট এবং ক্রিকেট অবকাঠামো
একটি জাতীয় দলের সাফল্যের মূলে থাকে তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো। নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট বেশ গোছানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ‘প্লাঙ্কেট শিল্ড’ তাদের প্রধান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। এছাড়া সীমিত ওভারের জন্য ‘ফোর্ড ট্রফি’ এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য ‘সুপার স্ম্যাশ’ অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই টুর্নামেন্টগুলো থেকেই উঠে আসে আগামী দিনের সেরা সব প্রতিভা।
নিউজিল্যান্ডের মাঠগুলো সাধারণত ছোট এবং চারপাশটা বেশ মনোরম হয়। তাদের ক্রিকেট অবকাঠামো অত্যন্ত আধুনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত। প্রতিটি অঞ্চলে তরুণদের প্রশিক্ষণের জন্য উন্নত একাডেমি রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে খেলাধুলায় পর্যাপ্ত সহযোগিতা প্রদান করা হয়। যার ফলে ছোট্ট একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা প্রতিনিয়ত বিশ্বমানের ক্রিকেটার উৎপাদন করে যাচ্ছে। তাদের তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রম অত্যন্ত শক্তিশালী।
নিউজিল্যান্ডের বিখ্যাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামসমূহ
| স্টেডিয়ামের নাম |
অবস্থান |
ধারণক্ষমতা |
| ইডেন পার্ক |
অকল্যান্ড |
৪২,০০০ (প্রায়) |
| বেসিন রিজার্ভ |
ওয়েলিংটন |
১১,৬০০ |
| হ্যাগলি ওভাল |
ক্রাইস্টচার্চ |
১৮,০০০ |
| সেডন পার্ক |
হ্যামিল্টন |
১০,০০০ |
বর্তমান স্কোয়াড এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় অবসরে যাচ্ছেন এবং তাদের জায়গায় তরুণরা হাল ধরছেন। রচিন রবীন্দ্রর মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা যেভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আগমনী বার্তা দিয়েছেন, তা কিউই সমর্থকদের জন্য বড় আশার আলো। তবে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অভাব পূরণ করা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রেন্ট বোল্ট বা কেন উইলিয়ামসনের মতো ক্রিকেটারদের বিকল্প খুঁজে বের করা সহজ কাজ নয়।
ভবিষ্যতে নিউজিল্যান্ডের সামনে প্রধান লক্ষ্য হবে আরও বেশি আইসিসি শিরোপা জেতা। বিশেষ করে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আক্ষেপ মেটানো তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রসারের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ধরে রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে যে সুন্দর বোঝাপড়া রয়েছে, তা এই সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
নিউজিল্যান্ডের তরুণ খেলোয়াড়রা এখন অনেক বেশি নির্ভীক এবং আধুনিক ক্রিকেটের সাথে মানানসই। তারা কেবল নিজেদের মাটিতেই নয়, বরং বিদেশের মাটিতেও দাপটের সাথে ক্রিকেট খেলছে। বিশেষ করে এশীয় দেশগুলোর স্পিন সহায়ক উইকেটে তাদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। দলটির এই বিবর্তন তাদের ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্ব ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের আধিপত্য বজায় রাখতে তরুণদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকা জরুরি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব আপডেট এবং
আইসিসি র্যাঙ্কিং সম্পর্কে জানতে আপনি বিভিন্ন ক্রীড়া ওয়েবসাইট অনুসরণ করতে পারেন।
বিশ্ব ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের ভাবমূর্তি ও ভদ্রতা
ক্রিকেটকে বলা হয় ‘ভদ্রলোকের খেলা’, আর নিউজিল্যান্ড দল এই কথাটি প্রতিটি পদক্ষেপে প্রমাণ করে। তাদের আচরণে কোনো উগ্রতা নেই, প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো অসম্মান নেই। ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে যেভাবে তারা পরাজিত হয়েও কোনো অভিযোগ ছাড়াই হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে, তা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। নিউজিল্যান্ডের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই তাদের অন্যান্য দলগুলোর চেয়ে আলাদা করে রাখে। তারা জয়ের জন্য মরিয়া, কিন্তু কখনোই অনৈতিক কোনো পথ অবলম্বন করে না।
তাদের এই ‘স্পিরিট অফ ক্রিকেট’ রক্ষার মানসিকতা বিশ্বজুড়ে তাদের ভক্তসংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক নিরপেক্ষ দর্শকও নিউজিল্যান্ডের খেলা দেখলে তাদের সমর্থন করেন। এটি একটি দলের জন্য বড় এক প্রাপ্তি।
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল এর এই ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে বজায় থাকুক, এটাই সকল ক্রিকেট ভক্তের প্রত্যাশা। খেলার জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, বরং মাঠের আচরণ এবং খেলার গুণগত মানই একজন খেলোয়াড় বা একটি দলকে অমর করে রাখে। কিউইরা সেই অমরত্বের পথেই হাঁটছে।
শেষ কথা
সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে দেখা যায়,
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটে এক অনুপ্রেরণার উৎস। ছোট্ট একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা যেভাবে বড় বড় পরাশক্তিদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। তাদের ইতিহাস যেমন দীর্ঘ সংগ্রামের, তেমনি অর্জনের পাল্লাও বেশ ভারী। স্যার রিচার্ড হ্যাডলি থেকে শুরু করে কেন উইলিয়ামসন পর্যন্ত প্রতিটি প্রজন্ম তাদের ক্রিকেটকে এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গিয়েছেন। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের গৌরব তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের মুকুটে এক অনন্য পালক। সামনে আরও বড় বড় শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা তাদের সামনে রয়েছে। তাদের সুশৃঙ্খল ক্রিকেট, মার্জিত আচরণ এবং অদম্য প্রাণশক্তি সামনের দিনগুলোতেও আমাদের মুগ্ধ করবে। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের এই জয়যাত্রা চিরস্থায়ী হোক এবং তারা বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখুক, এটাই আমাদের কামনা।