নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ড ক্রিকেটীয় লড়াই মানেই এক আলাদা উত্তেজনা। মাঠের লড়াইয়ে যখন এই দুই পরাশক্তি মুখোমুখি হয়, তখন গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করেছে ১৫৯ রান। অর্থাৎ জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ১৬০ রান। এই ম্যাচটি শুধু একটি সাধারণ ম্যাচ নয়, বরং নিউজিল্যান্ডের জন্য সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার এক অগ্নিপরীক্ষা।
নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের ইনিংস বিশ্লেষণ
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ্য করা গেছে। নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন এবং টিম সাইফার্ট বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে জফরা আর্চারের করা প্রথম ওভারে কোনো রান না পেলেও, পরবর্তী ওভারে তারা ঘুরে দাঁড়ান। আর্চারের তৃতীয় ওভারে সাইফার্টের ব্যাট থেকে আসা দুই চার এবং এক ছক্কা কিউই শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছিল। পাওয়ারপ্লে শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৫৪ রান।
তবে এই উড়ন্ত সূচনার পরও নিউজিল্যান্ড তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি। আদিল রশিদের ঘূর্ণি জাদুতে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে শুরু করে। ৯ ওভারের শেষ বলে ৩৫ রান করা সাইফার্টকে সাজঘরে ফেরান রশিদ। তার ঠিক পরের ওভারেই উইল জ্যাকসের বলে আউট হন বিপজ্জনক ওপেনার ফিন অ্যালেন। ৫ বলের ব্যবধানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় কিউইরা। মধ্যম সারির ব্যাটসম্যানদের ওপর প্রত্যাশা থাকলেও ইংলিশ স্পিনারদের সামনে তারা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন।
ইংলিশ স্পিনারদের দাপট ও কিউইদের ব্যাটিং বিপর্যয়
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের স্পিনাররা রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেন। আদিল রশিদ এবং উইল জ্যাকসের পাশাপাশি রেহান আহমেদ এবং লিয়াম ডসনও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। কিউই ব্যাটসম্যানরা স্পিনের বিপক্ষে সাবলীলভাবে খেলতে পারছিলেন না। রাচিন রবীন্দ্র এবং মার্ক চ্যাপম্যানের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটাররাও দ্রুত বিদায় নেন। বিশেষ করে চ্যাপম্যান যখন উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টা করেন, তখন আদিল রশিদের চমৎকার গুগলিতে স্টাম্পড হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় ছিল শেষ ৬ ওভারের ব্যাটিং। ১৪ ওভার শেষে যখন তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১২৩ রান ছিল, তখন মনে হচ্ছিল স্কোর অনায়াসেই ১৮০ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু শেষ ৩৬ বলে তারা মাত্র ৩৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এই সময়ে ৪টি উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং লাইনআপ অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়ে। গ্লেন ফিলিপস ৩৯ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেললেও দলের রানকে খুব বড় উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেননি।
বোলিং পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত ছক
| বোলারের নাম | ওভার | উইকেট | রান খরচ |
|---|
| আদিল রশিদ | ৪ | ২ | ২৮ |
| উইল জ্যাকস | ৩ | ২ | ২৩ |
| রেহান আহমেদ | ৪ | ২ | ৩০ |
| লিয়াম ডসন | ৩ | ১ | ২৫ |
নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষে দেখা গেছে, তাদের হারানো ৭টি উইকেটের সবকটিই নিয়েছেন ইংল্যান্ডের স্পিনাররা। পেসাররা ভালো শুরু দিলেও উইকেট পাওয়ার দিক থেকে পিছিয়ে ছিলেন। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে পিচ স্পিন বান্ধব এবং পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের স্পিনারদের জন্যও বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। ক্রিকেটের এমন উত্তেজনাপূর্ণ সব খবরের জন্য আপনারা
ক্রিকেট সংবাদ বিভাগে নজর রাখতে পারেন, যেখানে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হয়।
নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ড: সেমিফাইনালের জটিল সমীকরণ
এই ম্যাচটি শুধু দুই দেশের লড়াই নয়, বরং পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার ভাগ্যও এর ওপর নির্ভর করছিল। যদিও শ্রীলঙ্কা আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে, কিন্তু নিউজিল্যান্ডের এই ম্যাচের ফলাফলের ওপর পাকিস্তানের ভাগ্য ঝুলে আছে। যদি এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জয়লাভ করে, তবে পাকিস্তানের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।
নিউজিল্যান্ড জিতলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা এই গ্রুপের শীর্ষে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে সেমিফাইনালে তারা গ্রুপ-১ এর রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড এই ম্যাচ হারলেও তাদের কোনো ক্ষতি নেই, কারণ তারা আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। তবে শীর্ষ দল হিসেবে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে তারা কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।
- নিউজিল্যান্ডের জয়: সরাসরি সেমিফাইনাল নিশ্চিত এবং পাকিস্তানের বিদায়।
- নিউজিল্যান্ডের হার: নেট রান রেট এবং পরবর্তী ম্যাচের ওপর নির্ভর করতে হবে।
- পয়েন্ট টেবিলের অবস্থা: নিউজিল্যান্ড জয় পেলে তারা টেবিলের এক নম্বর অবস্থানে উঠে আসবে।
সেমিফাইনাল দৌড়ের বর্তমান অবস্থা
| দল | অবস্থা | সম্ভাবনা |
|---|
| ইংল্যান্ড | কোয়ালিফাইড | ১০০% (নিশ্চিত) |
| নিউজিল্যান্ড | লড়াই করছে | জয়ে সরাসরি সেমিফাইনাল |
| পাকিস্তান | অপেক্ষায় | কিউইদের হারের ওপর নির্ভরশীল |
| শ্রীলঙ্কা | বিদায় | ০% |
মাঠের লড়াইয়ে কিউই স্পিনারদের পরীক্ষা
১৬০ রানের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুব বেশি বড় না হলেও, স্পিন বান্ধব উইকেটে এটি তাড়া করা বেশ কঠিন। নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল এবং গ্লেন ফিলিপস মিডল ওভারে রান আটকে রাখার সক্ষমতা রাখেন। এছাড়া ইশ সোধির মতো অভিজ্ঞ স্পিনার কিউই দলে থাকায় ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা মোটেও সহজ হবে না। ইংল্যান্ডকে শুরুতেই বড় ধাক্কা দিতে না পারলে ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের হাত থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে জস বাটলার এবং ফিল সল্টের মতো মারকুটে ব্যাটসম্যান রয়েছেন যারা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ যদি সঠিক লেংথে বল করতে পারে, তবে এই স্বল্প পুঁজিতেও তারা লড়াই করতে সক্ষম। মাঠের লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা মুশকিল জয় কার হবে। এই রোমাঞ্চকর
নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ড দ্বৈরথ ক্রিকেট প্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে।
বিশ্ব ক্রিকেটের প্রতিটি আপডেট এবং রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য নিয়মিত
খেলার খবর পড়ুন। সঠিকভাবে তথ্য যাচাই করে আমরা আপনাদের কাছে সবচেয়ে নির্ভুল সংবাদটি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি। আজকের এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বোলিং কৌশল কেমন হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড়
ম্যাচের ১৯তম ওভারে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ যখন ১৪৭/৬, তখন গ্লেন ফিলিপসের উইকেটটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদিল রশিদের স্পিন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল সবাই। রশিদের করা শেষ স্পেলে কিউই ব্যাটসম্যানরা বড় শট খেলতে গিয়ে বারবার বিপদে পড়েছেন। স্পিনারদের এই দাপট দেখে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ইনিংসের সময়ও একই দৃশ্য দেখা যেতে পারে।
লড়াই যখন সমানে সমান হয়, তখন ছোট ছোট ভুলগুলোই বড় ব্যবধান গড়ে দেয়। নিউজিল্যান্ডের শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারায় অনেক ডট বল হয়েছে। ১৬০ রানের টার্গেট হয়তো ১৮০ হতে পারত যদি তারা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিত। তবে এখন সব দায়িত্ব বোলারদের কাঁধে। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে তাদের বোলাররা কতটুকু প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, তা দেখার জন্য ক্রিকেট বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
শেষ কথা
নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের এই মুহূর্ত পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে এটি স্পষ্ট যে, ম্যাচটি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। কিউইদের ১৫৯ রানের সংগ্রহ লড়াকু হলেও স্বস্তিদায়ক নয়। অন্যদিকে ইংলিশ স্পিনাররা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। সেমিফাইনালের লড়াইকে কেন্দ্র করে এই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে কিউইদের জন্য এটি ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। মাঠের এই তীব্র প্রতিযোগিতা ক্রিকেটকে আরও সমৃদ্ধ করছে। জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, দর্শকদের জন্য এটি ছিল একটি নিখুঁত বিনোদনের উৎস। আশা করা যায়, শেষ হাসি যারই হোক, আমরা একটি স্মরণীয় ক্রিকেটিং লড়াই উপভোগ করতে পারব।