এক পায়ে ভর করে ‘অসাধ্য সাধন’! ফাইনালে আলকারাজ । টেনিস কোর্টে ‘প্রত্যাবর্তন’ বা কামব্যাক শব্দটা আমরা অনেক শুনেছি। কিন্তু মেলবোর্নে আজ যা হলো, তাকে শুধু কামব্যাক বললে ভুল হবে। একে বলতে হবে অসাধ্য সাধন! শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা, পায়ে চোট, এমনকি কোর্টের পাশে বমি—সব কিছুকে হার মানিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন কার্লোস আলকারাজ। ৫ সেটের এক মহাকাব্যিক লড়াই শেষে তিনি প্রমাণ করলেন, বিশ্বাস থাকলে এক পায়েও বিশ্ব জয় করা যায়।
নাটকীয় মোড় এবং আলকারাজের লড়াই ম্যাচের শুরুটা ছিল আলকারাজের দাপটে ভরা। প্রথম দুই সেট খুব সহজেই পকেটে পুরে নেন তিনি। কিন্তু তৃতীয় সেটের শেষ দিকেই ঘটে বিপত্তি। হঠাৎ করেই দেখা যায়, আলকারাজ ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারছেন না। উরুর চোট আর ক্র্যাম্প যেন জাপটে ধরেছে তাকে। যন্ত্রণায় এতটাই কাতর ছিলেন যে, বিরতির সময় তোয়ালেতে মুখ গুঁজে দুবার বমিও করেন। গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা—সবাই ভেবেই নিয়েছিলেন, হয়তো এখানেই শেষ আলকারাজের যাত্রা।
ঠিক সেই সময়েই প্রতিপক্ষ জভেরেভ মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। ৪-৪ গেমের সময় আলকারাজ যখন ‘মেডিক্যাল টাইম-আউট’ চাইলেন, জভেরেভ তখন আম্পায়ারের ওপর রীতিমতো ক্ষিপ্ত। তার দাবি ছিল, নিয়মানুযায়ী ক্র্যাম্পের জন্য টাইম-আউট নেওয়া যায় না। তবে আলকারাজ কি আসলেই শুধু ক্র্যাম্পে ভুগছিলেন, নাকি অন্য কোনো চোট ছিল—সেই রহস্য কোর্টেই থেকে গেল।
এক পায়েই জভেরেভকে জবাব চতুর্থ সেটে আলকারাজ কার্যত এক পায়েই খেলা চালিয়ে গেলেন। যন্ত্রণার মধ্যেও তার মুখে ছিল হাসি। দর্শকদের চিৎকারে তখন রড লেভার অ্যারেনা কাঁপছে। পঞ্চম সেটে জভেরেভ যখন ৪-২ গেমে এগিয়ে, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটা হয়তো তার দিকেই ঝুঁকছে। কিন্তু আলকারাজ তো হার মানার পাত্র নন!
৩-২ স্কোরে জভেরেভের সার্ভিসের সময় এক অবিশ্বাস্য ফোরহ্যান্ড রিটার্নে ব্রেক পয়েন্ট আদায় করে নিলেন তিনি। জভেরেভ বারবার আক্রমণ করেও আলকারাজের জেদের কাছে টিকতে পারলেন না। ৫-৫ সমতা থেকে মুহূর্তেই স্কোর ৬-৫ করে ফেললেন আলকারাজ। শেষ পর্যন্ত সেই ট্রেডমার্ক রানিং ফোরহ্যান্ড শটেই বাজিমাত! যে শটে গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেছিলেন, সেই একই শটে জভেরেভকে স্তব্ধ করে কোর্টে শুয়ে পড়লেন তিনি।
ইতিহাসের পাতায় আলকারাজ ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের এই লড়াই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ইতিহাসের দীর্ঘতম সেমিফাইনাল হিসেবে রেকর্ড গড়ল। ম্যাচ শেষে আলকারাজ অকপটে স্বীকার করলেন, “শারীরিকভাবে এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন ম্যাচ ছিল। আমাকে শুধু হৃদয় দিয়ে লড়তে হয়েছে।”
ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে এখন মাত্র এক ধাপ দূরে টেনিসের এই এক নম্বর তারকা। আগামী রবিবার ফাইনালে জিতলে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই অনন্য কীর্তি গড়বেন তিনি। জভেরেভকে হারিয়ে আলকারাজ শুধু ফাইনালই নিশ্চিত করেননি, টেনিস বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন—জেদ আর বিশ্বাস থাকলে চোট কোনো বাধাই নয়।
