ক্রিকেট দল না গেলেও শুটিং দলকে ভারতে যাওয়ার অনুমতি

ক্রিকেট দল না গেলেও শুটিং দলকে ভারতে যাওয়ার অনুমতি

নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় ক্রিকেট দলকে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়নি। তবে, দিল্লির এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ শুটিং দলকে ছাড়পত্র দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সরকারের এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্তের কারণ এবং সফরের বিস্তারিত তথ্য নিচে আলোচনা করা হলো।

সরকারি আদেশ ও প্রতিযোগিতার সময়সূচি

আজ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে শুটিং দলকে ভারত সফরের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) প্রদান করেছে। আগামী ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ভারতের দিল্লিতে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর এটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ।

কেন শুটিং দলকে অনুমতি দেওয়া হলো?

ক্রিকেট দলকে অনুমতি না দিলেও শুটিং দলকে কেন অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকতে পারে। এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়াসচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানিয়েছেন, সরকার মূলত নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি জানান, শুটিং প্রতিযোগিতাটি সম্পূর্ণ ইনডোর এবং সংরক্ষিত এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় আয়োজকরা নিরাপত্তার বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তাছাড়া বাংলাদেশ দলটিও অত্যন্ত ছোট—মাত্র একজন খেলোয়াড় ও একজন কোচ। ফলে বড় কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি বা সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই সরকার মনে করছে।

কারা যাচ্ছেন এই সফরে?

দিল্লির এই আসরে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন দেশের অন্যতম সেরা শুটার রবিউল ইসলাম। তার সাথে কোচ হিসেবে যাচ্ছেন শারমিন আক্তার।

  • খেলোয়াড়: রবিউল ইসলাম (ইভেন্ট: ৫ ফেব্রুয়ারি)

  • কোচ: শারমিন আক্তার

  • রওনা হওয়ার তারিখ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

ভিসা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি

এই সফরের লজিস্টিক বা যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। শুটার রবিউল ইসলাম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট হওয়ায় তার বিশেষ পাসপোর্ট রয়েছে, যার ফলে তিনি ভিসা ছাড়াই ভারতে সাত দিন অবস্থান করতে পারবেন। তবে কোচ শারমিন আক্তারকে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এছাড়া, শুটিং ইভেন্টের জন্য খেলোয়াড়দের সাথে অস্ত্র ও গুলি বহন করতে হয়, যার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ (জিও) বা অনুমোদন ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে।

নিরাপত্তার কারণে ক্রিকেট দলের সফর বাতিল হলেও, শুটিংয়ের মতো ইনডোর গেমসের ক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে সরকার। সংরক্ষিত ভেন্যু এবং ছোট দল হওয়ায় এই সফরে ঝুঁকি কম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শুটাররা কেমন পারফরম্যান্স উপহার দেন।

Related posts

Leave a Comment